One Linkedin connection and Range Rover Evoque

In the last month, lot of things happened. I went to Manchester for the PLAB 1 preparation course. But that was only the gateway of what happened next. I met some amazing people there. Bonhipriya, Manjula, Marsha and Robin. There were so many more there, but somehow these four and I became a close group and it was awesome. I didn’t expect to be making friends at this stage of the life, and that was quite a big surprise to have friends again at this point.

After a really long time, I felt alone despite of having friends all around me. I had a huge crush on someone there who was our tutor. Most probably he was even younger than me, and being from an Arabic background, I knew that it was absolutely impossible to have something for us. But the truth is that I was feeling unbelievably alone.

My roommate was Bonhipriya, and she was having some problems with her boyfriend Amit. Manjula was there with her fiance Ganthan. Marsha had Izaaz, her husband visiting every weekend. Robin was mostly alone, but we saw him falling head over heels for Bonhipiya. It was only me who was alone.

I don’t mind being alone actually. In fact I prefer to be alone after what I experienced while being with someone. But I saw that every one of my friends got calls during the breaks, after the classes or even in weekends. And then there was me – completely alone. Putting a very brave face all the time, like nothing bothers me and blah blah. My old friends who used to know me 8 years ago, can’t even guess how much I have changed inside. They still think that I overreact, I express all my emotions and all these things. To be honest, I like that they think I’m still the same. I really don’t want anyone to know that I am hurt and scared and freaking out inside.

I was staying in a hotel after coming to London, with Bonhipriya and Manjula. I knew I was behaving stupidly about my crush on M. And after such a long time I started sharing my feeling with people. And in the hotel I saw them judging me how stupid I was behaving – in Malayalam which I couldn’t understand. I got the topic of the conversation with their lowered voice, mentioning our names and specific words that I used while I talked about M to Manjula. I love both of them, but you are not supposed to that to a friend, right? I was hurt beyond anything. Again I was proven right not to trust even the closest of friends about your emotions. And that was only a crush, not even anything real.

Somehow every time I am emotionally involved in anything, I get screwed. BIG TIME. I am so tired of this. I am alone, I choose to be alone right now. I feel lonely sometimes. But when I go to the gym at 7.30 in the morning without worrying about making breakfast for my husband or my child, and when I watch a movie at 11 am on a weekday just because I felt like it – my loneliness seems so much smaller compared to the comfort. My heart is still a human’s heart. I’m not only talking about the anatomical heart, I’m also talking about stupid-emotional heart that we read about in literature, and watch in the movies. But is it really worth of it to share one’s heart with others?

I went to Euston from our hotel to see off Robin after the exam. I carried his suitcase and helped him find the platform and everything. When he was saying goodbye, he said to me “You know you are very independent, right?” Later the same week, one of my MSc course mates, Nick also told me, “You are very independent.” Again one Bangladeshi learner in the tuition center I work in told me “You are like a guy”. I understood that he wanted to say “independent” as well, but because of his lack of English language proficiency and social status, it came out like that. I actually feel pretty good about myself when I hear these things. It boosts my confidence.

It has not been very easy. It’s not easy now, and I think it won’t ever start getting easier. And I will always feel alone and lost up to a certain point. I shared my emotions without anything hidden to one person, then I shared a big chunk of my emotions and feelings with some refinement to another. The first one was so occupied with his own that he never put any effort on mine, at least I thought that. And the second one, my ex-husband fucked me over and over with whatever I shared with him. So moving on from guys in general, I shared somethings with some of friends – who were not supposed to judge and everything. But they made fun of me in their own language. And the friends that I love with all my heart – Titlee, Mishu, Sharmin, Disha, Pinky – they really don’t care now. They are all very busy with their lives and I completely understand that and I really don’t wanna bother them. They still take everything I do on the face value. They still think that I am just being overemotional like I used to be before. And I don’t have the energy to correct them anymore. And Pinky and Titlee – Pinky directly told me to “stop telling me these” and “I can’t take it anymore”, Titlee forgot about talking to me when I particularly asked her that I was feeling bad and I needed to talk to someone. I really feel for them. Pinky, being the strong one and Titlee, being the perfect wife and mother, they don’t have any time for my BS. And although I got very mad when these happened, but I knew it was high time for me to move on from depending on anyone about emotional stuff.

It’s just better to vest on more material things for the sanity of my mind. Need to buy Range Rover Evoque within 5 years. No time to feel this stupid emotions until I have that in my garage.

Also, I have got a Linkedin invitation from someone who is the most special one in my life. Having anything close to him in my life can make me go on forever.. 😉

I am not looking for somebody with some superhuman gifts, just something I can turn to, somebody I can kiss.. dooo doo dooo doo… I want something just like this….



Is it really?

কাউকে আঘাত করে বা কাউকে ছোট করার জন্য না, কারও অপরাধ ঢাকার জন্য না। কোন ব্যক্তিবিশেষকে উদ্দেশ্য করে না, কোন ব্যাক্তিবিশেষকে সমর্থন করে না। অনেকদিন হল ভাবছি যে এটা লিখব, হয়ে ওঠেনা। আজ বসেই পড়লাম।

আমি পড়েছি বরিশাল মেডিকেল কলেজে, ইন্টার্নই করেছি হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট কলেজ হাসপাতালে। কিছুটা সময় কাজ করেছি বারডেম হাসপাতালে। এই বিভিন্ন জায়গায় কাজের সুবাদে অনেক অনেক ডাক্তারের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য হয়েছে। অনেক ধরণের রুগীও দেখেছি। যে আপুরা ডাক্তারি করেন বা চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত, তারা জানেন যে রুগীর কতো ভেরিয়েশন থাকে। আমার ইন্টার্নই করার সময়ে কখনো কোন প্র্যাক্টিকাল ম্যানুভার করার আদেশ পাইনি, কিন্তু নার্স স্টেশনে বসে থাকতাম অন-কল থাকলে, যাতে নতুন রুগী আসলেই প্রসিডিউরগুলা করতে পারি। স্টিচ দেয়া, খুলা, ক্যানুলা হাতে ঢুকানো, নাকে নল দেয়া, লাংস বা হার্ট থেকে পানি বের করা, পেটের পানি বের করা, মাথার ভেতরে যেই ফ্লুয়িড থাকে সেটাকে বের করা, ডায়ালাইসিসের চ্যানেল বানানো, সিজার অপারেশন (একটা অপারেশনের ৮৫%), এনেস্থেশিয়া দেয়া-সেটা থেকে রুগীর গ্যান ফিরানো এগুলো সবই করেছি। আমার সরকারী মেডিকেলে ইন্টার্নই করা বন্ধুরা হয়তো বেশী করেছে, কিন্তু আমিও করেছি। এবং আমি আমার সাথে ইন্টার্নই করা মানুসগুলাকে দেখে বুঝেছি যে অন্তত ৬০% মানুষও এগুলো করেছে, আন্তরিকতা নিয়েই করেছে। খুব স্নব কোন মেয়ে/ছেলে ডাক্তার যাকে দেখলে একেবারেই “ফার্মের মুরগি” মনে হয়, তারাও রুগি (সে যেই লেভেলের রুগিই হোকনা কেন) যখন দেখেছে অনেক আন্তরিকতা নিয়ে দেখেছে। একজনের সাথে কাজ করেছিলাম (তাকে একটুও পছন্দ করতাম্না) যে একটা রুগীর ঘরে বাজে গন্ধ দেখে যেতে চাইতনা, কিন্তু এক পেশেন্ট মারা যাওয়ার পর (কষ্টে রুগিটার বাথরুম হয়ে গেছিল) ডেডবডির নিচ থেকে পায়খানা পরিস্কার করেছিল যাতে দেহের গায়ে ময়লা না লেগে থাকে। যারা খ্যাপে যেত তারাও খ্যাপ খাটার পাশাপাশি নিজের হাসপাতালের রুগিও কম যত্ন নিয়ে দেখেনাই। রাতের বেলা ইমারজেন্সি কল আসলে বিরক্ত হয়েছে (ইন্টার্নই থেকে শুরু করে প্রফেসর পর্যন্ত সবাই) কিন্তু রুগি দেখতে আসেনাই এমন হয়নি কখনো। একটা অপারেশন যখন চলে, ওটির ভেতরে যে কি চলে এটা যারা ভিতরে না থাকে তারা বুঝবেনা। একজন ডাক্তার যখন একটা রুগিকে কোন ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করে তখন ক্যালকুলাস অঙ্কের মত কত হিসেব যে চলে যে তার ইয়ত্তা নাই। ৪০ বছর ডাক্তারি করছে এমন মানুষকেও ওষুধ/ব্যবস্থা প্রেস্ক্রাইব করার আগে চিন্তা করতে হয়। রোগের ধরন, রুগীর ধরন, রোগের আগের অবস্থা, রোগ ধরা পড়ার পরের অবস্থা, আগের ওষুধ, ওষুধের ডিউরেশন, রোগীর কমপ্লায়েন্স, রোগীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি অনেক কিছু। আমাদের দেশের ডাক্তারেরা রুগি বেশী, কাজ বেশী, পয়সা কম-এই দুষ্টচক্রের মাঝে আটকে থাকে দেখে আমরা সাধারণ মানুষেরা তাঁদের ব্যাবসায়ি মনোভাবটাই বেশী নজরে আনি। কিন্তু একজন সার্জারির প্রফেসরের সাথে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, উনি যখন সার্জারি করতেন উনার মাথায় চিন্তাগুল ছিল এমন- সারাদিন কলেজে-হাস্পতালে ক্লাস নিয়েছি-রুগি দেখেছি, টায়ার্ড, টিনেজ মেয়েটা কয়দিন ধরে মুড নিয়ে আছে, ছেলেটা ঘরের দরজা সবসময় লক করে থাকে-খবর নিতে হবে, বাবার সুগার কন্ট্রোল হচ্ছেনা, মায়ের প্রেশার বেশির দিকে, ভাইয়ের ছেলের বিয়ের কথা হচ্ছে-একমাত্র ফুপু হিসেবে থাকতে হবে, মেয়ের এসএসসি পরিক্ষা সামনে, বাসা ভাড়া কালেক্ট করতে হবে-সাথে মেইন্টেনেন্সের কাজ করাতে হবে, পরশু একটা বিয়ের দাওয়াত আছে-গিফট ঠিক করতে হবে, গ্রাম থেকে মানুষ এসেছে চিকিতসার জন্য-কথা বলতে হবে-ডাক্তার দেখাতে হবে, অমুকের সাথে অনেকদিন যোগাযোগ নাই-অসামাজিকতার লেবাস লেগে গেছে-তার অভিমান ভাঙ্গাতে হবে, সকালে লেকচার আছে-পড়তে হবে, পরীক্ষার খাতা দেখা হয়নি, সকালে গাড়ি লাগবে কিন্তু ছেলের কোচিং আছে একই সময়ে, বুয়া আসেনাই-বাসায় গিয়ে রান্না করতে হবে, নিজের প্রমোশন/নলেজ লাভের জন্য কিছু একটা করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাত শুধু ভিজিবল চিন্তা। সবথেকে বড় চিন্তা এই রুগীটার অপারেশন ভাল্ভাবে শেষ করতে হবে, গ্যান ফিরল কিনা দেখতে হবে, যারা এসিস্ট করছে তাঁদের কিছু শিখাতে হবে, নির্দিষ্ট সময় পর এই রুগিটার একটা ফলো আপ নিতে হবে। এবংএই রুগিটাই একমাত্র রুগী না, তাঁকে আরও (একেবারেই কমপক্ষে/বেয়ার মিনিমাম) ২০-৩০জন রুগিকে দেখতে হয়েছে দিনে। এদের আবার একেকজনের চিকিৎসা একেকরকম, রোগের প্রগ্নসিস একেকরকম। ডাক্তারের ব্যাক্তিগত, শারীরিক সকল সমস্যার কথাত বাদই দিলাম এখানে বলতে। জুনিওর ডাক্তার হলেত আরও দুনিয়ার প্যারা- এগুলার সাথে ডিগ্রি, পোস্টিং, পয়সার অভাব এগুলাও যোগ হয়। এতগুলা জিনিস একটা মানুষের মাথায় চলে। একদিন-দুইদিন এক ঘন্টা-দুই ঘন্টার জন্য না, সারা জীবন। এই চিন্তাগুল সকল ডাক্তারের মাথাতেই চলতে থাকে। তা তিনি খুব ন্যায়সঙ্গত মানুষ হন বা “কসাই” ডাক্তার হন। ব্যাবসায়ি ডাক্তার চিন্তা করলে ওদের কথাত এমন হবে যে এই রুগীর ঝামেলা হলে, সুনাম কমে যাবে, রুগী কমে যাবে, পয়সা কমে যাবে। আমি আমার জীবনে এমন কোন ডাক্তার দেখি নাই যে সগ্যানে চিকিৎসায় অবহেলা করেছে। রগচটা, চামার, অহঙ্কারি হতে পারে, আন্তরিকতা হয়তো কম, কিন্তু পয়সার লোভেই হোক বা নামের লোভেই হোক বা সেবা করার উদ্দেশ্যই হক-এটা যদি স্বয়ং হিপক্রেটিস এসেও বলে যে ডাক্তার রুগিটাকে ভাল করতে চায়নাই, আমি বিশ্বাস করবোনা।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে প্রাইভেট হাসপাতাল পছন্দ করিনা। কিন্তু ওদের বুর্জোয়া মনোভাব আছে বলেই রুগিকে চিকিৎসা না দেয়া/অবহেলার যুক্তি আমি মানতে পারিনা। যত ফেমাস হাসপাতালই হোকনা কেন একটা বেখেয়াল কাজ তাদের গুডউইল নষ্ট করে আর তার ফলে ব্যাবসাও নস্ত-এই লোকসান তারা হতে দিবে বলে মনে হয়না।
একটা রোগীর যখন “ক্রিটিকাল” অবস্থা থাকে তখন কোন ডাক্তার এমন নাই যে সেই অবস্থায় “ইগ্নর” করে। হয়তো রুগীর এতেন্ডেন্টের সাথে এপ্রচ ভাল থাকেনা, কিন্তু রোগীকে কষ্ট দিচ্ছে এমন কোন কাজ ইচ্ছায় (বা গা না করার জন্য) কেউ করবেনা। আইসিইউ/সিসিইউ/এইচডিইউ তে প্রতিটা মিনিটই কিন্তু রেস। ভেতরের অবস্থাটা গ্রে’জ এনাটমি বা হাউজের মতো একদমই না। আমরা সবাই চাই কাছের মানুষ বা নিজে অসুস্থ্য হলে একেবারে এক্সপার্ট সবাই দেখুক, কিন্তু এই এক্সপার্টিজ কিন্তু একদিনে আসেনা। অনেক অধ্যবসায় লাগে, অনেক প্র্যাকটিস লাগে। তাছাড়া মেডিকেল বিদ্যা যতই এডভান্স হোকনা কেন, শরীরবিদ্যা কিন্তু এখনো অনেকটাই অজানা। সামান্য প্যারসিটামল ওষুধই একেকজনের মাঝে একেক রকম কাজ করে, কোম্পানি-ব্র্যান্ড, দাম ভেদেতো আকাশ পাতাল তফাৎ! একবার শুধু ভাবেন যে আপনার কোন সুস্থ বন্ধুর ধুলায় এলারজি, আপ্নিও সুস্থ কিন্তু আপনার ধুলায় সমস্যা নাই। সামান্য ধূলিকণা মানুশে মানুশে সুস্থ অবস্থাতেই এত ভিন্ন অবস্থা তৈরি করে। আর সেখানে বড় ইফেক্টের কোন ওষুধ কত ভিন্নতা আনে একবার ভাবুন। আর তার উপর প্রতিটা রোগের একটা জেনেটিক প্রিডেসপজিশন থাকে, জমজ মানুষের মাঝেও একটা জিনের হাজার ভাগের একভাগের ভিন্নতার জন্য আকাশপাতাল ফারাক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপ্নার-আমার মতই আরেকটা মানুষ যে কিনা সর্বজ্ঞ নয়, শুধু বিদ্যা অর্জন করেছে একটা বিশেষ বিষয়ের-সে কিভাবে নিশ্চিত হতে পারবে! আমি মানি বেশীরভাগ ডাক্তারের ব্যাবহার জঘন্য। আর তার জন্য এই প্রফেশনের খুব খুব খুব ছোট্ট একটা পার্টের মানুষ হয়ে আমি ক্ষমা চাইতে পারি, কিন্তু কেন যেন “ডাক্তারের অবহেলায় রুগী মারা গেল” এই কথাটা মানতে পারিনা।
যখন কাছের কেউ কষ্ট পায়, আমাদের ছেড়ে চলে যায় আমাদের করার কিছু থাকেনা। খারাপ লাগাগুলো ইন্টেন্সিফাইড হয়। তখন সামনে যদি সেই মানুষটা থাকে যার উপর ভরসা করা হয়েছিল, বিশ্বাস করা হয়েছিল, এক্সপেক্ট করা হয়েছিল, দুঃখটা রূপ বদলে রাগ হয়ে সেই মানুস্টার উপর পড়ে। একবার ভাবেন তো, আপনার আমার মতই আরেকটা মানুষ, যে নিঃশ্বাস নেয়, খুধা লাগ্লে খায়, শারীরিক চাহিদাও সব আমাদের মতই, যার জীবনেও সুখদুঃখ আছে, স্বপ্ন আর আশা আছে সে কিভাবে আরেকজন রক্তমাংসের মানুষ মারা যাচ্ছে এমন সময় তার কষ্ট কমানোর চেষ্টা না করে পারে! একটা জিবন চলে যাচ্ছে, এসময় একেবারে সিরিয়াল কিলার না হলে সেটা ইগ্নর করা কি সম্ভব?

অসংলগ্ন ১.২

প্রথা ভাঙার গল্প … বিশাল লেখা

আমার না, আমার নানা আর বাবার গল্প। আমার বড়খালা, বড়খালার জন্মের পর তিন খানা মামা হয়ে মারা গেছেন, তারপরে মেজ খালা, তারপরে এক মামা হয়ে মৃত্যু আর তারপরে আমার মা। আমার মা কাল। এমন অবস্থায় ১৯৫৭ সালে কেমন অবস্থা হয় সেটাতো বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা না। মা হওয়ার পর, নানার বাবা নানাকে চিঠি লিখলেন যে নানা যদি আরেকটা বিয়ে না করেন, তাহলে তাকে ত্যাজ্য করা হবে। নানা কাজ করতেন কলকাতায়। উত্তর দিলেন “আমার মেয়েরা এমন কাজ করবে যে দেশের ছেলেদের তারা চাকরি দিতে পারবে। আর আপনি যদি তাঁদের জন্য এই দোয়া না করতে পারেন, তবে তাদের সুস্বাস্থের আর সুস্থ জীবনের দোয়া করেন, দেশের বাড়িতে থেকে তাদের দেখভাল করার কষ্ট করতে হবেনা” (এই চিঠি আমার কাছে আছে)। নানা আমার মা-খালাসহ নানুকে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন। পরবর্তীতে আমার দুই মামা হয়েছেন পরে, কিন্তু নানার বাসায় আর ফেরা হয়নি।


বড় খালা ফর্সা, টুকটুকে সুন্দরী ছিলেন। কলেজে পড়তে সময়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হোল, নানা খুব ভয়ে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। মা তখন ক্লাস এইটের ছাত্রী। এক বছরের মাঝে খালার ছেলে হয়ে যাওয়া এবং খালু খুব বিদ্বান আর মুক্তমনা সত্ত্বেও সুন্দরী খালার ঘরে আটকে থাকা দেখে ১৯৭২ সালে নানার সিদ্ধান্ত যে আর দুই মেয়েকে কোন অবস্থাতেই চাকরি পাওয়ার আগে বিয়ে দিবেন না। আমার মেজখালা ছিলেন দুর্দান্ত দুষ্টু মেয়ে। তারা তখন তাদের দাদাভাইয়ের মানসিকতা বুঝে গেছেন। দাদাভাইও তখন তার ছেলের বাড়িতে আসাযাওয়া করেন, দু’খানা নাতি বলে কথা! মেজ খালা পায়জামা গুটিয়ে হাফ প্যান্টের মত করে স্কুলকলেজে যেতেন। দাদাভাই সেটা দেখে মেজাজ খারাপ করে বাসায় এসে আমার নানু আর নানাকে বলতেন। নানু তাও মাঝে সাঝে একটু বক্তেন যে বুড়া মানুষকে খেপায় কেন, নানা খালি হাস্তেন-কিচ্ছুই বলতেন না। মেজ খালা রাজশাহী ইউনিভার্সিটি আর মা ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী তখন। খুলনা শহরের মানুষজন নানাকে ভালই চিনতেন, তারা উপকার করতে এগিয়ে আসলেন। দুই মেয়ে পিঠা-পিঠি। তারা “ফরসা-সুন্দরি” না, শুকনা-হ্যাংলা। তাদের বিয়ে তখনি না দিলেতো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমার চুপচাপ হাসিমুখের নানা তখন জীবনে প্রথম হুঙ্কার দিয়ে দাঁড়ালেন। মেয়ের বিয়ে দিবেন না। খুব টাকাপয়সা ছিলনা তাঁদের, তবুও পুরো দুনিয়ার বিরুদ্ধে স্থির হয়ে থাকলেন। আমার খালার গল্প শুনি, একবার উনি ছুটিতে বাড়ি গেছেন, পাড়াপ্রতিবেশি এবং “আত্মীয়” বাসায় বরপক্ষ নিয়ে এসেছে মেয়ে দেখতে, মেয়ে যেহেতু অনার্স ফাইনাল ইয়ারের কাল, শুকনা ছাত্রী, পাত্র হোল বিপত্নীক ৩০-উরধ লোক, যে কিনা আবার আমার খালাকে রিজেক্ট করেছে সে কাল দেখে। মেহমানের সামনে নানা কিছু বলেনি, ঐ “বরপক্ষ” চলে গেলে নানা আর নানু ঘরের মাঝে দাঁড়িয়ে তাঁদের “আত্মিও”দের বলে দিলেন এর পরে তাঁদের বাড়িতে ঢুকলে খুন করে হাতে মাথা ধরিয়ে দিবে। খালা এবং মা লজ্জায় বাড়িতে যাওয়া কমিয়ে দিলেন। ছুটিতে তারা যেতেন বড় বোনের বাড়িতে চট্টগ্রামে, যেখানে সুন্দরী বড় বোন তখন ১৫০ কেজি ওজন নিয়ে এইচএসসি পাস- দুই ছেলের মা। বোন এবং দুলাভাই তাঁদের আড়াল করে রাখতেন যেন কেউ বিয়ের প্রসঙ্গে কথা না বলতে পারে। আমার মা আর মেজ খালার মাস্টার্স পড়ার সময়ে বেশ কয়েকটা বিয়ের প্রপোজাল আসে, কিন্তু কাল-বেশি বয়স হয়ায় সেগুলো “না” হয়ে যায়। তাঁদের মাঝে সরকারী চাকরিজীবী, ভাল ব্যাবসায়ি, আর্মি অফিসারসহ “ভাল ভাল” প্রফাইলের মানুষ ছিলেন, যাদের কয়েকজনকে আমরা এখনো চিনি। আমার নানা পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, মেয়েরা চাকরি পাওয়ার আগে বিয়ে দিবেন না। খালা মাস্টার্স পাস করে গার্মেন্টস লাইনে কাজ করতে ঢুকলেন, তখন মাত্র দেশে গার্মেন্টস সেক্টর শুরু হচ্ছে, ১৯৮২ সালে। মা বি সি এস পাস করে প্রশাসন ক্যাডারে ঢুকলেন একই সালে। খালা অবিবাহিত মেয়ে, এডমিন্সট্রেশন কাজ করছেন গার্মেন্টস এর মতো নতুন সেক্টরে, নানা তাঁকে পরামর্শ দিলেন বড় খালার বাসায় থেকে কিছুদিন কাজ করাতে যাতে কেউ উলটোপাল্টা কথা না ছড়াতে পারে, আর নিজে গেলেন আমার মায়ের প্রথম পোস্টিং কুষ্টিয়ায় তার সাথে থাকতে।


মা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রথম কোর্টে বসলেন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে। এই মহিলা আরেকজন মহা সাহসী মানুষ (এমনিতে ভীতুর ডিম, বাপকে ছাড়া এখনো ঘুমাতে পারেনা রাতে, তার নাকি ভয় লাগে)। তার কোর্টের কার্যকলাপের কাহিনীও সেইরকম। এই মহিলা থাকেন তার বাবার সাথে একটা বাসা ভাড়া করে। নানাকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের মানুষের অনেক অভিযোগ, মাকে কেউ সামনা সামনি কিছু বলতে পারেনা ভয়ে, কিন্তু তার বুড়া বাবাকে বলাত সহজ। নানাকে একদিন মসজিদ থেকে বের করে দিলেন লোকেরা যে যার অবিবাহিত মেয়ে কোর্টে বসে তার মত “অপবিত্র” লোকের সাথে মসজিদে নামাজ হবেনা। তখন সিনে আসলেন কুষ্টিয়ার তৎকালীন ডিসি নানা। উনি বলে দিলেন যদি তার কর্মকর্তাকে কোনরকম অসম্মান করা হয়, নিজে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। ঘটনা বদলে গেল রাতারাতি।


এবার বাবার কথা। বাবা মায়ের সাথে ইউনিভার্সিটিতে পড়েছেন, একই বিষয়, একই ইয়ার। বিসিএস দিয়ে পোস্টিংও কুষ্টিয়ায়। ছাত্র অবস্থায় অনেক কষ্ট করেছেন, বাসা থেকে পয়সা পেতেন না, নিতেন ও না। দুইখানা কাজ করতেন, তারসাথে পড়াশুনা করেছেন। মা’কে দেখতেন যে ক্লাসে বেশী কথা বলেনা, নিজের মত থাকে, ক্লাস করে, এসে চলে যায়, তখনও ক্লাসমেটদের আপনি করে বলাই বেশী চলতো, মাও আপনি-ই বলতো, কিন্তু কোন ছেলে তুমি করে কথা বললে স্কার্ফ পরা সত্ত্বেও পট করে তুমি করে কথা বলত। মাঝে সাঝে তার বাপ ঢাকায় আসলে নির্দ্বিধায় বাপকে নিয়ে বিকেলে নিউমার্কেটের দোকানে ঘুরত, ফুচকা চটপটি খেত। সেই মেয়ে আবার তার সাথে কলিগ হয়ে পোস্টিং, সেই বাপকে নিয়ে বাপমেয়ের সংসার। বলা উচিত যে আমার বাপ হোল একেবারে বাঙ্গালিদের মতে হ্যান্ডসাম পুরুষ। ফর্সা, লম্বা, কোকরা কাল চুল, ভারি কন্ঠস্বর ইত্যাদি ইত্যাদি। এই মানুষ আমার ডিসি নানাকে বলল মা’কে বিয়ে করতে চায়, উনি বললেন, এই বিষয়ে মতামত দেয়ার মত বুদ্ধি মায়ের আছে, মা’কে সরাসরি বলতে। মা’কে বলায় মা’র মনের কথা ছিল এই “সুন্দর” ছেলে আমাকে বিয়ে করবে কেন! কিন্তু আমার নানার কাছেও কথা গেল। ডিসি নানা, নানা আর বাবা মিলে বিয়ের কথা ঠিক হল। কুষ্টিয়া থেকে খুলনায় গেলেন সবাই। মায়ের বাসায় বাবার পক্ষ থেকে দাদাভাই, ডিসি নানা অফিসিয়াল বিয়ের কথা বললেন। যেদিন কথাবার্তা হচ্ছে সেদিন সকলে হিসেব করে দেখল যে ঐ সপ্তাহের পর বাবা-মায়ের ট্রেনিং আর হাবিজাবি কাজে আগামী ৮-৯ মাস ফ্রি না। ওইদিন রাতে আমার বাবা-মায়ের আকদ হল। তাঁদের বিয়ের কোন প্রোগ্রাম হয়নি, মায়ের বিয়ের শাড়ি বলতে বিশেষ শাড়ি নাই, কিন্তু তাঁদের মতো সুখি মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।


আমার বাবার মা’ আমার মা’কে খুব পছন্দ করেনি। কোন চাচি-ফুপুও না। কারণ আমার মা কাল। আমার বাবার মতো “সুপুরুষের” পাশে কাল-বেটে মেয়ে মানায়না। মা যখন প্রথমবার তার শ্বশুরবাড়ি যায়, তাঁকে বরণ করার কোন সামাজিকতা হয়নি। বাবাও ট্যারা আছে। অখানে যাওয়ার দ্বিতীয়দিন মাকে বলছে “তোমার আসার শখ, আসছ। বউয়ের শ্বশুরবাড়ি আসার কথা, আসা হইছে। জীবনেও যেন আর এখানে আসার কথা না বলে”। আমার স্বল্পভাষী হাসিমুখের বাবার এই কথা শুনে মা আর কিছু বলেনাই। স্বামীর পিছু পিছু ঘরে হাঁটা দিছে দ্বিতীয় দিনেই। আমি হয়েছি তাঁদের বিয়ের ৪ বছর পর। সেটা নিয়েও অনেক কথা শুনতে হয়েছে আমার বাবা আর মাকে। কিন্তু আমার মা’কে কেউ কোন কথা বলার সাহস পায়নি। মা যখন প্রেগন্যান্ট, আমার দাদী মায়ের রুমে একটা সুন্দর ছেলের ছবি রাখতেন, বাবা অফিস থেকে এসে ছবিটা আলমারিতে ঢুকিয়ে একটা মেয়ের ছবি রাখতেন। মা’কে বলতেন যে “জন্তুদের বছর গড়াতেই বাচ্চা হয়, আমি চাই আমার একটা বাচ্চা হবে, সেটা মেয়ে। নিজের মনের মত তাঁকে মানুষ করবো”। অনেক কাহিনি কিচ্ছা করে আমি হলাম অক্টোবরে, বাবা গল্প করেন যে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট-তাঁদের দিন আনে দিন যায়। সিজার করে বাচ্চা হইছে, পয়সা পাবে কই ক্লিনিকের বিল মেটানোর। আর তখন খুলনায় হাসপাতাল এমন ভাল কিছু নাই যে হঠাত ইমারজেন্সি হওয়ায় ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও নেয়া যাবে। এই বিলের টাকা যোগাড়ের জন্য আমি হওয়ার ৮দিন পর বাবা আমাদের দেখতে আসছেন। বাবার পোস্টিং তখন শেরপুর। তাও টাকা জোগাড় হয়নাই। অপরাধীর মতো হাসপাতালে গেছেন। মা’র খুব খারাপ অবস্থা ছিল তখন। আমি হওয়ার পরপর আমাকে নাকি আমার নানু আর নানা কোলে নেন নাই, কারণ তারা রাগ ছিলেন আমার উপর যে আমি আমার মা’কে এত কষ্ট দিছি। আমার বাবা আসার পর উনি হাসপাতালে আর কাউকে থাকতে দিতেন না, উনিই রাতদিন থাকতেন। যেদিন মা’কে ছাড়ার কথা, বাবা নাকি মায়ের সামনে কেঁদে দিছেন যে এত অধম বাবা যে তার মেয়ে-বউকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেয়ার প্রায় ৮০০ টাকা তার ছিলনা। মাও কাঁদছেন। পরদিন দুজনের যখন মন খারাপ হওয়া চিন্তায় ডায়রিয়া হওয়ার মত অবস্থা, তখন ডাক্তার এসে বলছে যে আপনার বিলতও পুরাই শোধ করা, রোগীর বাবা আগেরদিন শোধ করে দিয়েছেন। বাবা যখন নানাকে বলেছেন, নানার উত্তর ছিল, তোমার ২৪ দিনের মেয়ের প্রতি তোমার মায়া চিন্তা কর, আর আমার ২৮ বছরের মেয়ের জন্য আমার দরদ কতো সেটাও ভাব, এই মেয়ের চিন্তা যদি বাপ হয়ে আমি না বুঝি তাহলে কে বুঝবে! এই কথাটা আমার বাবা এখনো বেদবাক্যের মত মানে। আমার নানা মারা জান ঐ বছরের ডিসেম্বরে। মারা যাওয়ার আগে তার রিকোয়েস্ট ছিল, তার বড় মেয়ে জানি এমএ পাস করে আর তার দুই ছেলের বৌ যেন এমএ পাস হয়। এই প্রসঙ্গে আরেকটু পর বলছি।


আমার বাবা-মা দু’জন খুব ব্রিলিয়ান্ট। বাবা খুব মেধাবী আর মা খুব পরিশ্রমী। আমার যখন তিন বছর বয়স, মা স্কলারশিপ পেলেন বিলেতে এসে এমএ করার। বাচ্চা ছোট, মানুষ তেজি দেখায় বাইরে কিন্তু আসলে একেবারেই (মোমের মানুষ বললেও ভুল হবে) পারদের মানুষ। আমার বাপকে ছেড়ে থাকতে গেলে তার চোখের পানি, নাকের পানি এক হয়ে যায়। সেতো কোনভাবেই পড়তে যাবেনা, তাও যদি বাপের হতো তাও কথা ছিল, স্বামীর স্কলারশিপ হয়নাই, সে কেমনে যাবে! তখন আমার নরম বাপ হুঙ্কার দিল। বলে দিল যদি মা এমন সুযোগ পেয়েও পড়তে না যায়, তাহলে সে মেয়েকে নিয়ে আলাদা পোস্টিং নিয়ে চলে যাবে। একটা বছর মা’কে  নরম-গরম বুঝায় রাজি করাল পড়তে যেতে। আর এই সময়ে আমাকে শিখাত সে, মা’কে বলবা যে তুমি ইংল্যান্ডে না পড়লে আমি কিভাবে পড়ব, তোমাকে যেতে হবে ইত্যাদি। আমিতো ছোট বাচ্চা, পাখিপড়ার মত করে সেটা মা’র কাছে বলতাম, মা খালি কান্না করতো। কিন্তু যেতে বাধ্য হোল শেষ পর্যন্ত। গিয়ে অনেক কান্নাকাটি করতো। নানুকে চিঠি লিখছে “রশীদ আমাকে ফিরতে দিবেনা, আপনি অনুমতি দেন, আমি চলে আসি, আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতে আমার কষ্ট হয়”। নানুর উত্তর ছিল “তোমার এক মেয়েকে দূরে রেখে তোমার কষ্ট হয়, আমার পাঁচটা ছেলেমেয়ে দূরে আছে, আমার পাঁচগুণ কষ্ট, আমাকে কষ্টের কথা শুনাতে এসনা”। এই চিঠিও আমার কাছে আছে। মা পড়াশোনা করছে, পিএইচডি করছে, সবই আমার বাপের বিশাল আগ্রহে। যেদিন মায়ের পিএইচডি ডিগ্রীর কনভোকেশন, আমারও এমবিবিএসের কনভোকেশন। আমার বাপের থেকে সুখী মানুষ কেউ ছিলনা ওইদিন। রাতে আমরা বাইরে খেতে গেছি, আমার বাপ খালি একটা কথাই বলছে, আমার শ্বশুর আমাকে শিখাইছে মেয়েকে কিভাবে সম্মান দিতে হয়। আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি, মা’র হিস্টেরেক্তমি হইছে। এমনিতেই আমার দাদি-চাচি-ফুপুদের পছন্দ ছিলনা মা’কে। তারপর আবার একমাত্র মেয়ে তার পেটে জন্ম। ওইসময়ে আমার দাদী কথা শুরু করলেন যে আমার মা জানি আমার বাপকে বুঝায় যে আরেকটা বিয়ে করুক, “বংশের প্রদীপ” জালাক। মা কিছু উত্তর দিতনা। খালি হাসতো, আর আমার তো মেজাজ খারাপ হয়ে যেত। একদিন রাগের চোটে বাপকে বলছি যে বুবু এমন বলে। আমার বাপ খুব ঠাণ্ডা মানুষ। তাঁকে কখনো আমার দাদির সাথে গলা উচায়ে কথা বলতে দেখিনাই। সেইদিন রাতে খাবার সময় আমার বাপ আমার দাদিকে খুব ঠাণ্ডা গলায় বলছে যে “মা, তোমার আর আমাদের সাথে থেকে লাভ নাই, তুমি দেশে গিয়ে থাক। আমার বউকে এতদিনেও পছন্দ হলনা, আর আমার মেয়ে দেখে তোমার এত কস্ত-এইটা তোমার দেখা লাগবেনা”। বলা বাহুল্য যে আমার দাদির “ফরসা-সুন্দরি” অন্য ছেলের বউয়েরা, মেয়েরা কেউ তাঁকে তাঁদের সাথে থাকতে দিতনা। এখন উনি পুরাই শয্যাশায়ী, বাথরুমও বিছানাতেই। আমার মা তাঁকে দেখে, অন্য মানুষকে পরিষ্কার করতে দেয়না-যদি তারা মুখ গোমড়া করে ওগুলা করে আর তাঁদের বদদোয়া লাগে-এই ভয়ে। বাবা আর মা হোল আমার বুড়া দাদির ২৪/৭ কেয়ারটেকার। কিছুদিন আগে মা খুব অসুস্থ ছিল, আমার এক ফুপুকে আসতে বলছিল কয়কদিনের জন্য- আমার সাদা চামড়ার সুন্দরী ফুপু নিজের মায়ের যত্ন নেয়ার জন্য আসার সময় পান নাই।


দুই খালার কথা বাদ পড়ে গেছে মাঝখান দিয়ে। মেজ খালা এখন তিনখানা গার্মেন্টসের এমডি। তার ছেলে-ছেলের বৌ-নাতি-নাত্নি-জামাই নিয়ে সুখের সংসার। মায়ের বিয়ের এক বছর পরই তার বিয়ে হয়েছে। ইজিপ্ট, মালয়শিয়া, জার্মানিতে হিল্লিদিল্লি করে বেরায়। বড় খালার ছেলে যখন ল’তে মাস্টার্স করে, খালা তখন এমএ করছেন, ২০০২ সালে মারা গেছেন, মারা যাওয়ার আগে তাঁরও কথা ছিল তাঁর ছেলের বউয়েরা যেন চাকরিজীবী হয়, পড়াশোনা করা হয়। আর দুইমামার বিয়ের সময় নানুর একটাই চাহিদা ছিল, মেয়েকে এমএ পাস হতে হবে, চাকরিজীবী হতে হবে। আমার বড়মামি খুলনা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, নানু স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ার আগ পর্যন্ত তার কখনো রান্নাঘরের দায়িত্ব নিতে হয়নাই।


এই নানার নাতি আর এই বাপের মেয়ে হিসেবে আমি পুরাই ব্যর্থ। কিছুদিন আগে একটা পোস্ট দিছিলাম যে “Behind every successful woman, there’s a supportive dad” । আমার মা-খালার জন্য এটা বড় ধ্রুব সত্য। আর আমি যতটুকু আসতে পারছি জীবনে তার পুরাই আমার বাপের কৃতিত্ব। আমি যখন বরিশাল মেডিকেলে চান্স পাই, আমার ভীতুর ডিম ইমোশনাল মা’টা যেতে দিতে চায়নাই। আমার বাপের কথা ছিল, আমার মেয়ের উপর আমার ৫০০% ভরসা- ওকে যেতে দাও। গত বছর যখন আমি বিলেতে আসার প্রিপারেশন নিচ্ছি, আমার ডিভোর্স পরবর্তী সময়ে ঘুমের ওষুধ ব্যাবহার থেকে শুরু করে অনেক কিছু নিয়ে আমার পাগলা অবস্থা। আমার বাবা আমার সাথে থেকে থেকে, গল্প করে, কথা বলে, আমাকে নিয়ে সাইকলগিস্টের কাছে দৌড়ায়ে মা’কে চ্যালেঞ্জ দিছে যে তার মেয়ে একলা বিলেতে পড়তে এসে বখে যাবেনা। এখনো এই হাজার মাইল দূর থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে মানুষটা।


আমার বাবামা একটা মেয়েকে এডপ্ট করার প্রক্রিয়ায় আছেন এখন। আমার দাদি-চাচা-চাচি-ফুপুদের কথা ছিল, গরীব একটা বাচ্চাকে যদি এডপ্ট করতেই হতে, মেয়ে বাচ্চা কেন- ছেলে এডপ্ট করলেই হয়। আমার বাপ আবারো সবাইকে বলে দিছে যে এই মানসিকতা হলে তার বাসায় যেন কেউ না আসে।

অসংলগ্ন ১.১

এই কিছুদিন হোল খুব কাজের প্রেশার। খাবার প্রতিদিন কিনে খেতেও পয়সা বেশী খরচ হয়, আবার না খেলে সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে খুব উইক লাগে। তাই গত মাসখানেক হোল প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসি। আমি ভয়াবহ অলস মানুষ। প্রতিদিন রান্নাই করিনা বাসনকোসন ধুতে হবে দেখে। আর সেখানে প্রতিদিন লাঞ্চ বানায় নিয়ে আসা! নতুন বুদ্ধি করে নিছি। একদিন প্রায় ৩০০-৪০০ গ্রাম পাস্তা সিদ্ধ করে একটু অলিভ অয়েল দিয়ে বক্সে রেখে দেই ফ্রিজে। প্রতিদিন সকালে বের হওয়ার সময়ে হয় টুনা মাছ (টিনের) বা মাছ বেক করা আগের রাতে বা আগের রাতের চিকেন টুকরা-টাকরা (একটু রেখে দেই প্রতিদিন-ই রাতে খাওয়ার সময়ে) উপরে দেই, ক্যারট স্টিক ৬-৭টা, একটু গোলমরিচ, একটু লবণ এই নিয়ে চলে আসি। আমার সাথের মানুষজন দেখি আরও এক কাঠি সরেস। একজন দেখি শুধু পাস্তার উপর একটু চীজ গ্রেট করে নিয়ে চলে আসে, অনেকে দেখছি সালাদ ক্রিম ও দেয়। লম্বা দিনের কাজ থাকলে যদি কোন কার্বোহাইড্রেট না খাওয়া হয়, তাহলে খুব উইক লাগে। জতদিন শুধু থিওরি ক্লাস ছিল, না খেয়ে বা শুধু আপেল বা কমলা খেয়ে কাজ চলেছে, কিন্তু এখন আর পারিনা। ৩-৪টার দিকে মাথা ধরে যায় কিছু না খেলে। রাতের খাবারে আর কার্বোহাইড্রেট কিছু খাইনা, শুধু প্রোটিন। গত প্রায় ৩৭ দিন সেম খাবার চালাচ্ছি, ওজন বাড়েনাই একটুও! একদিন পাস্তা সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিয়ে পুরা সপ্তাহ চালায় ফেলছি, এই খুশিতেই আমি অস্থির!

এই জীবনে প্রথমবার স্কুলে মা’র বানানো নাস্তা মিস করছি (যেইটা সে জোর করে ব্যাগে গুহজে দিত, আমার বিশাল আপত্তি সত্ত্বেও। এবং একটা বিশাল লজ্জার কথা এই ফাঁকে বলে দেই… ক্লাস সিক্স-সেভেনে থাকতে ডে-শিফটে ক্লাস করার জন্যে মা ভাত-ভাজি করে যেত প্রায় ই। আমার আবার ভাত পছন্দ ছিলনা কখনোই। আমি প্রায় এক সপ্তাহের ভাত-ভাজি স্কুলে যাওয়ার আগে টেবিলের ড্রয়ারে পাচার করে ব্যাগ হালকা করে স্কুলে যেতাম। মা’র পোস্টিং তখন নরসিংদী, শুক্র-শনিবার বাসায় থাকতো আর বিশাল পরিষ্কার কার্যক্রম নিত। তো এক শুক্রবার মা আমার টেবিলের থেকে পচা গন্ধ পেয়ে জীবনে প্রথমবার আমার পারমিশন ছাড়া ড্রয়ার খুলে দেখে পলিথিনে ভরা পচা ভাত যেটার আর বিবরণ না দেয়াই ভাল। ঐ জীবনে প্রথম মা’র আসল রুদ্রমূর্তি দেখলাম। খাবার নষ্ট করার জন্যে। এত ভয় মা’কে জীবনেও পাইনাই। বকেনাই, মারেনাই কিচ্ছুনা, কিন্তু তার চেহারা দেখে ভয়ে আত্মা শুখায় গেছিল। সেই তার কাছে প্রমিজ করছি খাবার নষ্ট করবোনা, এই সাড়ে ২৯ বছরেও আর কোন খাবার নষ্ট করার মত বড় আত্মা হয়নাই। এমনকি পোড়া খাবার, মসলা/লবণ বেশী হওয়া খাবারও শেষ করে ফেলি।)

আরও একটা আজাইরা কথা। আজকাল দেখি মায়েরা বাচ্চারা কথা শুনেনা বলে দুঃখ করে বা অনেক বাচ্চাকে দেখি বাপ-মা’র সামনে অসভ্য বেয়াদবি করে। আমার বাপ-মা জীবনে আমাকে দুইবার মারছে (একবার দাদিকে মারতেছিলাম দেখে আর একবার মানা করা সত্ত্বেও কোরআন শরিফের উপর জিদ করে দাঁড়ায় ছিলাম দেখে, দুই সময়েই আমি বুঝার মতো বড় ছিলাম্না), বকছে মনে হয় ১৫-১৬বার আর প্রতিবারই এমন বড় কোন কারণ ছিল। কিন্তু তাঁদের মুখের উপর কথা বলার সাহস হয়নাই, কোন বেয়াদবি করার সাহস কখনো হয়নাই, চোখের ইশারাই যথেষ্ট ছিল বুঝার জন্যে যে সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছি। অথচ তার জন্য বাবা-মা’র সাথে বন্ধুত্য কমেনাই। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে তারাই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, এমন কোন জিনিস নাই যেইটা তাঁদের সাথে শেয়ার করতে পারিনাই বা করিনাই। তারা কি এমন ডিফারেন্ট করতো, যেটা এখনকার বাবা-মা’রা করতে পারেনা?

Inspiration 1.1

The most common way to find recreation after a long busy week to surrender myself to the amazing, colorful and happening world of the celluloid. Sometimes, I watch a movie, either a good one or a cheesy one just blow some steam, or I succumb to the short, more alluring world of tv shows. But both are equally enticing.

This weekend, I finished watching a very favorite tv show of mine. As always, after finishing up all the episodes, I started feeling incomplete and (obviously) began to think about my life in perspective of the show.