অসংলগ্ন ১.১

এই কিছুদিন হোল খুব কাজের প্রেশার। খাবার প্রতিদিন কিনে খেতেও পয়সা বেশী খরচ হয়, আবার না খেলে সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে খুব উইক লাগে। তাই গত মাসখানেক হোল প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসি। আমি ভয়াবহ অলস মানুষ। প্রতিদিন রান্নাই করিনা বাসনকোসন ধুতে হবে দেখে। আর সেখানে প্রতিদিন লাঞ্চ বানায় নিয়ে আসা! নতুন বুদ্ধি করে নিছি। একদিন প্রায় ৩০০-৪০০ গ্রাম পাস্তা সিদ্ধ করে একটু অলিভ অয়েল দিয়ে বক্সে রেখে দেই ফ্রিজে। প্রতিদিন সকালে বের হওয়ার সময়ে হয় টুনা মাছ (টিনের) বা মাছ বেক করা আগের রাতে বা আগের রাতের চিকেন টুকরা-টাকরা (একটু রেখে দেই প্রতিদিন-ই রাতে খাওয়ার সময়ে) উপরে দেই, ক্যারট স্টিক ৬-৭টা, একটু গোলমরিচ, একটু লবণ এই নিয়ে চলে আসি। আমার সাথের মানুষজন দেখি আরও এক কাঠি সরেস। একজন দেখি শুধু পাস্তার উপর একটু চীজ গ্রেট করে নিয়ে চলে আসে, অনেকে দেখছি সালাদ ক্রিম ও দেয়। লম্বা দিনের কাজ থাকলে যদি কোন কার্বোহাইড্রেট না খাওয়া হয়, তাহলে খুব উইক লাগে। জতদিন শুধু থিওরি ক্লাস ছিল, না খেয়ে বা শুধু আপেল বা কমলা খেয়ে কাজ চলেছে, কিন্তু এখন আর পারিনা। ৩-৪টার দিকে মাথা ধরে যায় কিছু না খেলে। রাতের খাবারে আর কার্বোহাইড্রেট কিছু খাইনা, শুধু প্রোটিন। গত প্রায় ৩৭ দিন সেম খাবার চালাচ্ছি, ওজন বাড়েনাই একটুও! একদিন পাস্তা সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিয়ে পুরা সপ্তাহ চালায় ফেলছি, এই খুশিতেই আমি অস্থির!

এই জীবনে প্রথমবার স্কুলে মা’র বানানো নাস্তা মিস করছি (যেইটা সে জোর করে ব্যাগে গুহজে দিত, আমার বিশাল আপত্তি সত্ত্বেও। এবং একটা বিশাল লজ্জার কথা এই ফাঁকে বলে দেই… ক্লাস সিক্স-সেভেনে থাকতে ডে-শিফটে ক্লাস করার জন্যে মা ভাত-ভাজি করে যেত প্রায় ই। আমার আবার ভাত পছন্দ ছিলনা কখনোই। আমি প্রায় এক সপ্তাহের ভাত-ভাজি স্কুলে যাওয়ার আগে টেবিলের ড্রয়ারে পাচার করে ব্যাগ হালকা করে স্কুলে যেতাম। মা’র পোস্টিং তখন নরসিংদী, শুক্র-শনিবার বাসায় থাকতো আর বিশাল পরিষ্কার কার্যক্রম নিত। তো এক শুক্রবার মা আমার টেবিলের থেকে পচা গন্ধ পেয়ে জীবনে প্রথমবার আমার পারমিশন ছাড়া ড্রয়ার খুলে দেখে পলিথিনে ভরা পচা ভাত যেটার আর বিবরণ না দেয়াই ভাল। ঐ জীবনে প্রথম মা’র আসল রুদ্রমূর্তি দেখলাম। খাবার নষ্ট করার জন্যে। এত ভয় মা’কে জীবনেও পাইনাই। বকেনাই, মারেনাই কিচ্ছুনা, কিন্তু তার চেহারা দেখে ভয়ে আত্মা শুখায় গেছিল। সেই তার কাছে প্রমিজ করছি খাবার নষ্ট করবোনা, এই সাড়ে ২৯ বছরেও আর কোন খাবার নষ্ট করার মত বড় আত্মা হয়নাই। এমনকি পোড়া খাবার, মসলা/লবণ বেশী হওয়া খাবারও শেষ করে ফেলি।)

আরও একটা আজাইরা কথা। আজকাল দেখি মায়েরা বাচ্চারা কথা শুনেনা বলে দুঃখ করে বা অনেক বাচ্চাকে দেখি বাপ-মা’র সামনে অসভ্য বেয়াদবি করে। আমার বাপ-মা জীবনে আমাকে দুইবার মারছে (একবার দাদিকে মারতেছিলাম দেখে আর একবার মানা করা সত্ত্বেও কোরআন শরিফের উপর জিদ করে দাঁড়ায় ছিলাম দেখে, দুই সময়েই আমি বুঝার মতো বড় ছিলাম্না), বকছে মনে হয় ১৫-১৬বার আর প্রতিবারই এমন বড় কোন কারণ ছিল। কিন্তু তাঁদের মুখের উপর কথা বলার সাহস হয়নাই, কোন বেয়াদবি করার সাহস কখনো হয়নাই, চোখের ইশারাই যথেষ্ট ছিল বুঝার জন্যে যে সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছি। অথচ তার জন্য বাবা-মা’র সাথে বন্ধুত্য কমেনাই। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে তারাই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, এমন কোন জিনিস নাই যেইটা তাঁদের সাথে শেয়ার করতে পারিনাই বা করিনাই। তারা কি এমন ডিফারেন্ট করতো, যেটা এখনকার বাবা-মা’রা করতে পারেনা?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s